হযরতজীর জরুরী হেদায়েত

533 views
0

মেরে মোহতোরাম দোস্ত, দাওয়াতের রাস্তায় দায়ী চলার জন্য ২ জিনিসের শর্ত, যদি কেউ এই ২ শর্ত পুরা না করতে পারে তবে সে এই দাওয়াতের রাস্তায় চলতে পারবে না। যদি দায়ীর মধ্য সবর আর তাকওয়া না থাকে তবে সে এই রাস্তায় চলতে পারবে না। এই ২ বুনিয়াদি শর্ত এই রাস্তায় চলার জন্য। সবর আর তাকওয়া। আম্বিয়া আঃসাঃ দের সমস্ত মেহনত আর কোশেশ এর খোলাসা এই ২ জিনিস। ইউসুফ আঃ এর সমস্ত ওয়াকেয়া বলার পরে আল্লাহ তাআলা বলেন, ইন্নাহু মাইইত্তাকি ওয়াইইয়াসবির- এই জন্য বলে যে, যে ব্যক্তি তাকওয়া আর সবর এখতিয়ার করবে আল্লাহ তাআলা তাকে যে কোন হালতে, যে কোন বিপদে, আল্লাহতাআলা তাকে ক্ষতির মধ্য ফেলবেন না। শর্ত এই ২ টাই সবর আর তাকওয়া। আল্লাহ আমাদের মাফ ফরমাক, আমাদের এই ২ জিনিসেরই কমি।

আমি আরজ করতেছি যে এই ২ জিনিস এই রাস্তায় চলার জন্য শর্ত। যে দায়ী যে কোন নাগাওয়ারি হালতে সবর করবে আর তাকওয়া অবলম্বন করবে।আর আল্লাহ না করুক যদি কেউ কোন গোনায় লিপ্ত থাকে খাছ করে গীবতের গোনাহতে, যাকে এই জামানার লোক গোনাহই মনে করে না, বলে যে আমি তো হক কথা বলতেছি, হ্যা, হক কথা বলাই গীবত।হক কথা বলাই গীবত। কোন মুসলমানের আড়ালে তার ব্যাপারে হক কথা বলাই গীবত।

হাদীসে আছে, ২ মুসলমানের মধ্য অথবা ২ জিম্মাদারের মধ্য যখন আপোষে এনতেশার অথবা এখতেলাফ হয় তার অর্থ এই ২ জনের মধ্য কেউ না কেউ কোন গোনাহের মধ্য লিপ্ত আছে। আমি বহুত জরুরী জিনিস বলতেছি যে, আপষে এখতেলাফের সবক হইল গোনাহ। গোনাহ আপোষে এখতেলাফের সবক হবে।

কারন যখন তাকওয়ার বুনিয়াদের উপর আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের সাথে সম্পর্ক হবে না তখন মাখলুকের সাথে মোয়ামেলাত নষ্ট হবে। আর যদি তাকওয়ার বুনিয়াদের উপর আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের সাথে সম্পর্ক বা তাআল্লুক ঠিক থাকে তখন মাখলুকের সাথেও সম্পর্ক ঠিক থাকবে। এই জন্য বলে, যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং নিজের মধ্য মোয়ামেলাত ঠিক করে নেয় আল্লাহ সুবহানাতাআলা তার এবং মাখলুকের মধ্য মোয়ামেলাতকে ঠিক করে দেয়।

এই জন্য আমি বলতেছি যে, ২ জিনিস শর্ত সবর আর তাকওয়া। হুজুর আকরাম সাঃ নিজে এবং সাহাবাকেরামকে এই ২ জিনিসের উপর উঠাইছিলেন এবং এই ২ জিনিসের মশক করিয়েছেন। সবর আর তাকওয়া। সবর হইল এই যে, যখন তোমার উপর নাগাওয়ারি হালত আসে তুমি তা বরদাশত করো। হুজুর সাঃ সাহাবা রাঃ দের এই রকম সবরের তালিম দিতেন, আবুজর রাঃ মসজিদে শুয়ে ছিলেন। হুজুর সাঃ তাকে শোয়া থেকে উঠালেন আর জিজ্ঞাসা করলেন হে আবুজর, তুমি মসজিদে কেন শুয়ে আছো? তিনি বললেন আমার কোন ঘর নাই এই জন্য মসজিদে শুয়ে আছি। হুজুর সাঃ বললেন হে আবুজর আমাকে এইটা বলো যে আমি দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পরে যদি মদীনাওয়ালারা তোমাকে কষ্ট দেয় তখন তুমি কী করবে? তিনি বললেন আমি মদীনা ছেড়ে মুলকে শাম চলে যাব, হুজুর বলেন যদি শাম দেশওয়ালারা তোমাকে কষ্ট দেয় তখন তুমি কী করবা? তিনি বলেন যে আমি আবার শাম দেশ ছেড়ে মদীনা চলে আসবো। হুজুর বলেন যদি মদীনাওয়ালারা আবার তোমাকে কষ্ট দেয় তখন তুমি কী করবা? আবুজর রাঃ বলেন তাহলে আমি তাদের মোকাবেলা করবো। আর কতো সবর করবো? হযরতজী বলেন সব সময় মনে রাখবা যে, দায়ীর সবরের পরিক্ষা মউত না আসা পর্যন্ত পুরা হবে না, কেন? কারন কাফেরের যে কবর তা খায়েশের ময়দানের মধ্যই হয়। কারন কাফেরের খায়েশাত আর আশা তার কবরের থেকেও বেশি ওয়াসি হয়। আর মুমিনের সবরের ময়দান তার মউতের থেকেও বেশি ওয়াসি হয়।

সমস্ত নবিদের তুলনায় হুজুর আকরাম সাঃ কে সবচেয়ে দামী উম্মত দেয়া হয়েছে এবং সমস্ত নবী যত সবর করেছে হুজুর সাঃ এর উপর তার থেকে বেশি সবরের তালকিন এবং হুকুম রয়েছে কারন সমস্ত আম্বিয়া আঃ সবর করেছে আপনা আপনা কওমের জন্য আর হুজুর সাঃ সবর করেছেন পুরা উম্মতের জন্য। এই জন্য আমি আরজ করতেছিলাম যে দায়ীর মউত সবরের ময়দানে হবে। কারন এইটা বলার যেন কোন সুযোগই না থাকে যে ভাই আমরা আর কত দিন সবর করবো? তো হুজুর সাঃ জিজ্ঞাসা করলেন হে আবুজর শাম মুলক থেকে যখন তুমি পুনরায় মদীনায় ফেরত আসবা আর মদীনার লোকেরা তোমাকে কষ্ট দিবে তখন তুমি কী করবা? তার মানে এই যে আমরা আর কত সবর করবো? আমি তাদের মোকাবেলা করবো।।আর হুজুর সাঃ বললেন হে আবুজর তুমি সবর করবা, আর তোমার জিম্মাদার তোমাকে যেখানাই পাঠাক না কেন তুমি তার হুকুমের উপর চলতে থাকবা, আর জিম্মাদারের সাথে করে তোমাকে যেখানেই নিয়ে যাক না কেন তুমি তার সাথে চলতে থাকবা যতক্ষান না তোমার আমার সাথে কেয়ামতে সাক্ষাত না হয়। এর আগে তুমি এইটা চিন্তাও করো না যে আমার সবর শেষ হয়ে গেছে, না না কক্ষনো না, তুমি সবর করতে করতে এই হালতে আমার সাথে কেয়ামতে এসে সাক্ষাত করবে।

হুজুর সাঃ বলেন কাম করনেওয়ালাদের সাথে এবং আমার নিকটে যারা আসবে তাদের সাথে কুরুব হাসিল হবে কারন আম্বিয়া আঃ এর সাথে সবচেয়ে বেশি কুরুব হাসিল হয়েছে আম্বিয়াওয়ালা মেহনতের দারা। তো হুজুর সাঃ বলেন যারা আমার কাছে আসবে এবং আমাকে মহব্বত করবে তাদের নাগাওয়ারি হালত, গরিবি, তহমত এই ভাবে আসবে যেভাবে পাহাড়ের ঢালের পানি উপর থেকে নিচে আসে তার থেকে বেশি দ্রুত। চিন্তা করা যায় পানির কেমন শক্তি হয় আবার পানি পাহাড়ের উপর থেকে নীচে যেমন তেমন দ্রুত।

এক সাহাবী বলল যে হুজুর আমি আপনার সাথে থাকতে চাই হুজুর বললেন যে যদি তুমি আমাদের সঙ্গে থাকতে চাও তাহলে ফোকর ফাকর, হালত আর মোজাহাদার জন্য শক্ত করে কোমর বেধে নাও। যে আমার যত কাছে আসবে তার দিকে হালত আর পেরেশানি তত দ্রুত আসবে। যদি কোন দায়ী বলে যে আমার সাথে কেন এই রকম হচ্ছে , কেনো হালত আর পেরেশানি আসতেছে? তার মানে সে দাওয়াতের রাস্তা সম্পর্কে ওয়াকিবাল না। এই জন্য আমি আরজ করতেছিলাম যে বুনিয়াদি জিনিস হইল সবর, আর হালত ও পেরেশানি দূর হওয়ার জন্য সবরের চেয়ে আর কোন উত্তম মাধ্যম নাই। দায়ীকে প্রত্যক হালত আর পেরেশানি থেকে বাচার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হল সবর।

এই জন্য সবর আর এন্তেকাম এই ২ জিনিস একে অপরের বিপরীত। দায়ীর দিলে কখনো সবর আর এন্তেকাম এক হতে পারে না। যে সে সবর করে আবার প্রতিশোধও নেয় এইটা কখনো হতে পারে না।আল্লাহ তাআলা সবরের মধ্য এত বড় শক্তি রাখছে এত বড় শক্তি রাখছে যে, যে কোন হালতে সবর তাকে রাস্তা দেখাবেই। আম্বিয়া কেরাম আঃ এর জিন্দেগিতে এমন এমন হালত আসছে যে জাহেরীভাবে পুরাপুরি মাইয়ুস হইয়া যেত, পুরাপুরি মাইয়ুস, আল্লাহতাআলা কামকরনেওয়ালাদের উপর এই হালত এনে দেখতে চান যে এই কামের উপর আমাদের কতটুকু বাসিরাত আর একীন পয়দা হয়েছে? আর হালতের মধ্য মাইয়ুছ হয়ে কাম করনেওয়ালা যদি হুকুমকে ছেড়ে দেয় তাহলে সে পরীক্ষার মধ্য সফল হইল না।

আর হালতের মধ্য্ যদি সে আল্লাহ পাকের হুকুমকে শক্ত করে ধরে তাহলে সে পরীক্ষায় সফল।

আল্লাহতালা আমাদের আমলের তৌফিক দান করুক। আমীন।

Changed status to publish