সবর, তাকাওয়া ও লজ্জা – হযরতজী মাওলানা মুহাম্মাদ সা’দ কান্ধালাভী দামাত বারাকাতুহুম

517 views
0

সবর (ধৈর্য্য) কি তা বুঝতে হবে। সবর হল বিপদের মধ্যেও আল্লাহর হুকুমকে আঁকড়ে ধরে থাকা। বিপদের সময়ে শুধুমাত্র সবর করার দ্বারা না আল্লাহর সাহায্য আসবে না আর সমস্যার সমাধান হবে।
মনে রেখ, যে বিপদ গুনাহের কারণে সেটা কেবল সবরের মাধ্যমেই সমাধান হবার নয়। মানুষ সমস্যার সমাধান কেবল সবরের মাধ্যমে করতে চায়! না, শুধুমাত্র সবরের মাধ্যমে সমস্যা দূর হবে না কারণ সমস্যা তৈরি হয়েছে গুনাহের কারণে।

যে বিপদ গুনাহের কারণে এসেছে সেটা শুধু সবরের মাধ্যমে সমাধান হবে না। বরং এই সবর তাকে জাহান্নাম পর্যন্ত নিয়ে যাবে। (কারণ তাকাওয়া নেই)

আল্লাহ জাহান্নামীদের উদ্দেশ্যে বলবেন, “তোমাদের সবর করা বা না করা কোনো বিশেষ গুরুত্ব রাখে না কারণ তোমরা তোমাদের কর্মফল ভোগ করছো”।

এই জন্য সবর ও শোকর (কৃতজ্ঞতা) কি তা বুঝতে হবে। আল্লাহ তা’আলা কুরআনে সবরকে তাকওয়ার সাথে উল্লেখ করেছেন।
যেখানে সবরের কথা এসেছে সেখানেই তাকওয়ার (আল্লাহর ভয়) কথাও এসেছে। কোরআনের পাকের বিভিন্ন আয়াতে ধৈর্য্যকে তাকওয়ার সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। আর আমরা সবর করছি তাকাওয়া ছাড়া। পৃথিবীর সমস্ত মুসলমানদের একই অবস্থা।
হযরত ইউসুফ (আঃ) সবর আর তাকওয়ার সমন্বয় করেছিলেন। আল্লাহ তা’আলা এই সবরের কারণে প্রত্যেক সমস্যা থেকে তাঁকে উদ্ধার করেছেন। এবং পুরষ্কার হিসেবে ভাইদেরকে অধীনস্থ আর জুলেখাকে অনুগত করে দিয়েছিলেন।

সবর ও তাকওয়ার সমন্বয়ে পুরস্কার। তাকাওয়া শুধুমাত্র আল্লাহকে ভয় করাকে বলা হয়। কোন ব্যক্তি কোন গুনাহ করতে সৃষ্টি জগতের কাউকে ভয় করলে তার মধ্যে তাকওয়া নেই। তাকওয়া শুধুমাত্র আল্লাহকে ভয় করাকেই বলা হয়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন “কোনো গুনাহ করার সময় যদি মনে হয় কেউ দেখবে না তো! এই মনে হওয়া ঐ গুনাহ থেকে বেশি বড় গুনাহ যা সেই লুকিয়ে করছিল”।

এই জন্য আমি প্রায়ই বলি তাকওয়া এবং লজ্জা এই গুলো ঈমানের এমন বৈশিষ্ট্য যার সম্পর্ক শুধুমাত্র আল্লাহর সাথেই। বেহায়া (লজ্জাহীন) সে নয় যে মানুষের সামনে গুনাহ করে। বেহায়া সে যে লুকিয়ে গুনাহ করে। যে সবার সামনে করে সে বেহায়া না। আমার কথা খুব একাগ্র হয়ে শুনতে হবে।

মানুষ ঐ সব মানুষদের বেহায়া বলে যারা সবার সামনে গুনাহ করে। বস্তুত যারা মানুষের সামনে গুনাহ করে তারা তো মানুষ হিসেবে গণ্য না। হাদীস শরীফে আছে “কোনো ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সাথে রাতে সময় কাটানোর ঘটনা সকালে বন্ধুদের বলে বেড়ায় তার উদাহরণ ঐ গাধার মত যে সবার সামনে তার চাহিদা পূরণ করে”।

যখন নিজের স্ত্রীর সাথে ঘটা ঘটনা (যেটা গুনাহ না বরং হালাল) বন্ধুদের সামনে বলায় তাকে গাধা বলা হচ্ছে। সেইখানে যে ব্যাক্তি মানুষের সামনে গুনাহ করবে তার মধ্যে কি মানুষের কোনো বৈশিষ্ট্য বাকি থাকে? এই জন্য বেহায়া সে না, যে সবার সামনে গুনাহ করছে বরং বেহায়া সে যে লুকিয়ে গুনাহ করছে। কারণ লজ্জার সম্পর্ক সৃষ্টিকর্তার সাথে সৃষ্টিজগতের সাথে না।

বলা হয়েছে, “যখন তোমার লজ্জা শেষ হয়েছে তখন তোমার যা ইচ্ছা কর। কেননা লজ্জার সম্পর্ক যার সাথে ছিলো সেটা শেষ হয়ে গিয়েছে এখন তোমার যা ইচ্ছা কর। এখন তুমি পশুর মতো স্বাধীন”।
এই জন্য আমাদের মধ্যে তাকওয়া তৈরি করতে হবে বস্তুত এই তাকওয়াই ঈমান।

…………………………………………………
আমাদের কিছু ভাই ও ওলামা হযরত তাদের বিভিন্ন লেখায়, বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন মাওলানা সা’দ সাহেব বলেছেন, “গোপনে পাপ করাটাই বেহায়াপনা, প্রকাশ্যে পাপ করাটা বেহায়াপনা নয়”। আসলে এই খন্ডিত অংশবিশেষ যা ১০/১৫ সেকন্ডের অডিও, কোন বয়ানে মাওলানা সা’দ সাহেব বলেছেন। যেমনটা এই মাত্র উপরের বয়ানে দেখলাম। প্রেক্ষাপট দেখুন। এখান থেকে শুধু এই অংশটুকু কেটে এই কথা ইসলামবিরোধী প্রমাণ করা কত সহজ। অথচ, তিনি তাকওয়ার উপর কথা বলতেছিলেন যে, মানুষ গোপনে পাপ করতে লজ্জা পায়না, প্রকাশ্যে পাপ করতে লজ্জা পায়। কিন্তু যার অন্তরে তাকওয়া থাকবে সেতো গোপনে পাপ করতেও লজ্জা পাবে। কারণ যার হুকুম ভাঙা হচ্ছে সেই আল্লাহতো সর্ব অবস্থায়ই দেখছেন। প্রকাশ্যে পাপ কারা করে? করে পশুরা, যাদের পাপ সম্বন্ধে কোনোরকম অনুভূতিই নেই। এই সমস্ত ব্যাখ্যার পরে মাওলানা সা’দ বলেছিলেন “গোপনে পাপ করাটাই বেহায়াপনা প্রকাশ্যে পাপ করা বেহায়াপনা নয়, ওটাতো পশুত্ব।”

Changed status to publish