দারুল উলূম দেওবন্দ কর্তৃক মুন্তাখাব হাদীস উৎসাহিত করা

252 views
0

দারুল উলূম দেওবন্দ দ্বীনী উন্নতি ও আমলের জযবা পয়দা করার বিভিন্ন পরামর্শ দান কালে নিজে থেকেই বিভিন্ন কিতাবাদির পাশাপাশি মুন্তাখাব হাদীস তালীম করার উৎসাহ দান করেন।

এ সংক্রান্ত কয়েকটি ফতোয়াঃ
————————————-
[১] একজন নিজের মনের ওয়াসওয়াসা দূর করতে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য দারুল উলূমের নিকট পরামর্শ চাইলে দারুল উলূম ফাযায়েলে আমাল, ফাযায়েলে সাদাকাত, মুন্তাখাব হাদীসসহ ৫-৬ টি কিতাব পড়ার পরামর্শ দেন।

প্রশ্নঃ # ১৬১০৪১, ভারত
জনাব, সবচেয়ে খারাপ অবস্থা আমার উপর একটা দীর্ঘ সময় থেকেই চলে আসছে যে, আমার মধ্যে আল্লাহ, রসূল এবং অনেক আয়াতের ক্ষেত্রে ভুল চিন্তা আসে। যখন কোন ধর্মীয় নাম, আল্লাহর নাম শুনি, আয়াত শুনি তো এমন সময় তার সাথে মিলে এমন খারাপ শব্দগুলো দিয়ে ভুল কথা মনে আসে। কখনও কখনও আল্লাহর সম্পর্কে এমন খারাপ ধারণা আসে যা ভাষায় প্রকাশ সম্ভব নয়। সেসময় সেকেন্ডের কম সময়ে সে চিন্তা হতে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আসি। নিজেকে এমন নীচু মনে হয়, দ্বীন থেকে বেরিয়ে গিয়েছি। এ কারণে নামাযে আদায় হতে বহু দূর চলে গিয়েছি। কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করি না। ঘরের লোকেরা সবাই বিরক্তি প্রকাশ করে। তারা আমার বেদ্বীনীর ব্যাপারে চিন্তিত এবং আমাকে প্রায়ই তিরষ্কার করে ভাল মন্দ বলে। আমি তাদের বুঝাতে পারি না কেন এমন করছি। হযরত ২২ বছর আগে ১৯৯৪ সালে ৪০ দিন জামাতে গিয়েছিলাম। এর আগেও অনেকবার ৩ দিন ও ১০ দিন লাগিয়েছি। সে সময়কার অভ্যাস এত উত্তম ছিল যে, ধর্মীয় সকল বিষয়ে শ্রদ্ধা ছিল। এমনকি সেসময় নিজের মহল্লার মসজিদে আযানও দিতাম। আমার পরিবার খুব পাবন্দ পরিবার ছিল। কিন্তু যখন আমার এমন অবস্থা শুরু হলো, ধীরে ধীরে নামায হতে এমন দূরে সরে গেলাম যে, এ কথা জিজ্ঞেস করবেন না, আমার চিন্তা কোথায় চলে গিয়েছে! তবুও আমার একটি বিশেষ কথা এই যে, ওগুলো ছাড়া আমি আচার ব্যবহারে ধর্মীয় সকল নিয়ম কানুন মেনে চলি। ধর্মের একেকটি বিষয় আওড়াই। সকল আচার ব্যবহার শরীয়ত মোতাবেক করার চেষ্টা করি। সকল ব্যাপারে ধর্ম কি বলে তা আগে দেখি। মেহেরবানী করে কোন অজিফা বা সমাধান থাকলে বলুন। আমি কি ধর্ম থেকে বের হয়ে গেছি? যদি এমন হয়, আমার জন্য কি করণীয়? আমার সেই কবিরা গুনাহগুলো আল্লাহর নিকট মাফ পাওয়া যাবে?
—————————————–
জবাবঃ # ১৬১০৪১ | প্রকাশঃ মে ১২, ২০১৮ | ফতোয়া নম্বর 1017-907/H=8/1439
بسم الله الرحمن الرحيم

ধর্ম থেকে তো আপনি বের হননি। তবে ওয়াসওয়াসা (সন্দেহ) থেকে বাঁচার উপায় এই যে, অযথা কথা বা কাজ, বাজে ও অসংলগ্ন কথা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখে নামায, তেলাওয়াতের এহতেমাম করতে থাকুন, আর গুনাহ থেকে নিজে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন; বিশেষতঃ নজরের (চোখের) গুনাহ হতে। বিশেষ প্ৰয়োজন ছাড়া খোলামেলা ভাবে অপরিচিত মহিলাদের সাথে কথা বলা হতে বেঁচে থাকুন। আর যদি ওয়াসওয়াসা আসে তাহলে তা শেষ করার চিন্তায় পড়ার দরকার নেই। বরং নিজের সময়কে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, মুস্তাহাব আদায়ে নিয়োজিত রেখে উলামায়ে কেরামের নির্ভরযোগ্য, সঠিক কিতাব গুলো গুরুত্বসহকারে পড়তে থাকা।

উদাহরণ স্বরূপঃ ক) ফাযায়েলে আমল খ) ফাযায়েলে সাদাকাত গ) তালিমুল ইসলাম ঘ) ইলমূল ফিকাহ ঙ) তালিমুদ্দিন চ) যাজাউল আমল ছ) মুন্তাখাব হাদীস।

লিঙ্কঃ http://bit.ly/2mmg2sP [35]

Changed status to publish