মাওঃ সা’দ কান্ধলভী দা,বা, কিভাবে বিশ্ব আমীর হলেন

মাওঃ সা’দ কান্ধলভী দা,বা, কিভাবে বিশ্ব আমীর হলেন এ’প্রশ্ন অনেকে করেন । তাদের সামনে
তুলে ধরলাম কাকরাইলের একজন সিনিয়র ফায়সাল মাওঃ ফারুক সাব দা,বা,এর সাক্ষরিত চিঠিটি
যা’কিনা ২০১৭ সালের এস্তেমার সময় দেশবিদেশের জিম্মাদার সাথীদের এবং কাকরাইলের মুরুব্বীদের
সমন্বিত মাশোয়ারার ফায়সালা ।
**********************************************************************************************

২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরি
২২জানুয়ারি / ২০১৭

শ্রদ্বেয় ভাই ও বুজুর্গ!

এই বছর টঙ্গি বিশ্ব ইজতিমায় সারা বিশ্বের পুরনো সাথিরা এবং শুরা হযরতরা মাশোয়ারায় একত্রিত হয়ে
পারস্পরিক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। যাার পরিপ্রেক্ষিতে উনাদের উপস্থিতিতে নিম্ন লিখিত ব্যাখ্যা
এবং সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।

হযরতজী মাওলানা এনামুল হাসান সাহেব রহ.-এর ইন্তেকালের পর নিম্মলিখিত বড়রা কাজ পরিচালনার
জন্য জিম্মাদার সাথী নির্ধারণের জন্য একত্রিত হোন।
১. হযরত মাওলানা ইজহারুল হাসান কান্ধলভী রহ.
২. হযরত মাওলানা যুবায়ের হাসান কান্ধলভী রহ.
৩. হযরত মাওলানা সাআদ সাহেব কান্ধলভী দা.বা.
৪. হযরত মিয়াজী মেহরাব রহ.
৫. হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ওমর পালনপুরী রহ.
৬. হযরত মাওলানা সাঈদ আহমেদ খান সাহেব রহ.
৭. হযরত মাওলানা জয়নুল আবেদীন সাহেব রহ.
৮. হযরত হাজি আব্দুল ওয়াহাব সাহেব দা.বা.
৯. হযরত হাজি আব্দুল মুকিত রহ.

উপরোল্লোখিত হযরতরা ফয়সালা করেছিলেন যে নিচের তিনজন হযরত এই কাজের জিম্মাদারীর দায়িত্বে
থাকবেন।
১. মাওলানা ইজহারুল হাসান সাহেব রহ.
২. মাওলানা যুবায়ের হাসান সাহেব রহ.
৩. মাওলানা মুহাম্মদ সাআদ সাহেব কান্ধলভী দা.বা.

উপরোক্ত সিদ্ধান্তনুযায়ি সম্মানিত তিন মুরব্বি আপোষে পুরো কাজকে চালিয়েছেন। ১৯৯৭ সালে মাওলানা
ইজহার সাহেব রহ.-এর ইন্তেকালের পর বাকি দুই হযরত মাওলানা যুবায়েরুল হাসান সাহেব রহ. এবং
মাওলানা সা’আদ সাহেব সাহেব দা.বা. দায়িত্ব নিয়ে এই কাজের প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন। ২০১৪ সালে
মাওলানা যুবায়েরুল হাসান সাহেবের ইন্তিকালের পর মাওলানা সা’আদ সাহেব দা.বা. এই মহতি কাজের
জিম্মাদারী আদায় করে আসছেন।

১. ২০১৭ সালের টঙ্গি এস্তেমায় বিপুল সংখ্যক দেশের শুরা হযরতরা উনাদের দেশের মেহনতের প্রতিনিধি
হিসেবে দাঁড়িয়ে মেহনতের স্বার্থে মাওলানা সা’আদ সাহেবকে তাবলিগের মেহনতের বিশ্ব জিম্মাদার হিসেবে
রায় পেশ করেন। সারা আলমের এই ইজতেমায় ফয়সালা হয় যে, মাওলানা সা’আদ সাহেব দা.বা. হবেন
তাবলিগ মেহনতের জিম্মাদার এবং ফায়সাল।

২. সব সময়ই নিজামুদ্দিন তাবলিগ মেহনতের বিশ্ব মার্কাজ এবং প্রাণকেন্দ্র। সারা পৃথিবীতে তবলিগের
মেহনতের যে কোনো পরামর্শ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ সেখান থেকেই হয়ে এসেছে। এই রীতি মাওলানা ইলিয়াছ
সাহেব রহ.-এর যুগ থেকেই প্রতিষ্ঠিত। তারপর থেকে এযাবৎ পর্যন্ত সমস্ত আমির এভাবেই চলে এসেছেন।
এর উপরই উনারা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। এখনো নিজামুদ্দিনই তাবলিগের বিশ্ব মার্কাজ। ২০১৬
রাইবেন্ড ইজতেমায় হযরত হাজি আব্দুল ওহাব সাহেব দা.বা. আগত সমস্ত বড়দের উদ্দেশ্য করে জোর
দিয়ে বলেন যে, দাওয়াতের মেহনতের সাথে সম্পর্কিত সমস্ত উমর এবং উমরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে
নিজামুদ্দিন মার্কাজ।

৩. শুরু থেকেই সমস্ত দুনিয়ার নির্বাচিত শুরা হযরতরা উনাদের উমুরসমূহ সমাধানের জন্য নিজামুদ্দিন
পাঠাচ্ছেন। যার ধারাবাহিকতা এখনো অব্যহত বা বলবত আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। আলহামদুলিল্লাহ এই
সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো সব সময়ই রাইবেন্ডে পাঠানো হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ এভাবেই তা অব্যহত থাকবে।

৪. আন্তর্জাতিকভাবে ইন্ডিয়া, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ এই তিন দেশের বড়রা নিম্ম লিখিত সময়ে একত্রিত
হবেন এবং বিভিন্ন উমুরের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

১.রাইবিইন্ড ইজতেমা

২.টঙ্গি ইজতেমা

৩.প্রতি দুই বছরে হজ্ব মৌসুমের মেহনত

ইনশাআল্লাহ এই বিষয়গুলো এভাবেই হবে। এটিই আলমি পরামর্শ। এর জন্য কোনো আলমি শুরার প্রয়োজন
নেই।

৫. ২০১৫ সালের রাইবেন্ড ইজতেমা থেকে ফিরে নিজামুদ্দিনে ইন্ডিয়ার পুরনো সাথিদের ত্রিমাসিক মাশোয়ারায়
মাওলানা সা’আদ সাহেব দা.বা. সম্মানিত আট জনের সমন্বয়ে একটি শুরার জামাত গঠন করেছিলেন।
নিজামুদ্দিনে যে আট জনের সমন্বয়নে মাওলানা সা’আদ সাহেব দা.বা. সম্মানিত শুরার জামাত গঠন
করেছিলেন উনারা হলেন-
>১. মাওলানা ইব্রাহিম দেউলা সাহেব
২. মাওলানা আহমেদ লাট সাহেব
৩. মাওলানা ইয়াকুব সাহেব
৪. মিয়াজী আজমত সাহেব
৫. মাওলানা আব্দুস সাত্তার সাহেব
৬. প্রফেসর আব্দুল আলিম সাহেব
৭. মাওলানা যুহারুল হাসান সাহেব
৮. মৌলভি মোহাম্মদ ইউসুফ সাহেব

মার্কাযে প্রতিদিন সকালে পরামর্শ হয়। উপরোল্লোখিত সম্মানিত শুরার হযরতদের সাথে মার্কাযের মুকিমিন
হযরতরা শরিক হয়ে পরামর্শ করেন। আপোষে রায় পেশ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এভাবেই কার্যক্রম চলতে
থাকবে।

৬. হযরতজি মাওলানা এনামুল হাসান সাহেব যখন সুস্থ ছিলেন সে সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, প্রতি দুই
বছর অন্তর বিশ্বের সমস্ত পুরান সাথিরা নিজামুদ্দিনে পরামর্শ এবং মোজাকারার জন্য একত্রিত হবেন।
যদ্দরুণ সারা বিশ্বের মেহনত একটি নকশার উপর চলা নিশ্চিত করবে। এই নকশাকে মেনে চলা হবে।

৭. বিভিন্ন দেশের পুরানো সাথীদের জোড় এবং ইজতেমাসমূহে তিন দেশের সমন্বিত জামাত অংশগ্রহণ
করবেন। এই জমাতসমূহের আমির বা জিম্মাদার সব সময় নিজামুদ্দিন হতে হয়ে আসছে। এই স্বাভাবিক
ধারাবাহিকতা এভাবেই চলতে থাকবে।

৮. পুরনোদের জোড়ে অংশগ্রহণের জন্য তিন দেশের সমন্বয়নে যে জামাত আসে ওনাদের বিষয়টি টঙ্গি
মাশোয়ারাতে উত্থাপন করা হয়েছিল। বিষয়টি ছিল যে, ঐ জামাতকে কিভাবে ইস্তেগবাল এবং ব্যবহার
করা যায়? মাশোয়ারার পর ফয়সালা হয় যে, নির্দিষ্ট দেশের জামাতকে ইস্তিকবাল এবং ব্যবহারের জন্য
প্রত্যেক জামাতের পৃথক পৃথক জামাত পত্র থাকবে। উদাহরণ স্বরূপ সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য ইন্ডিয়ার
জামাতের সাথে নিজামুদ্দিন থেকে একটি চিঠি প্রেরণ করা হবে।

মো. ফারুক
কাকরাইল শুরা বাংলাদেশ
২৩ রবিউল সানি
২২ জানুয়ারী(কপি)